বুধবার, ৮ আগস্ট, ২০১২

বিমানে পচাদা

পচাদা এরোপ্লেনে করে বোম্বে যাবে। সকাল-সকাল উঠে একটা ট্যাক্সি ডাকিয়ে পচাদা এয়ারপোর্টে গেলো। ওমা! একটু পরেই দেখি পচাদা ব্যাজার মুখে বাড়ি এসে উপস্থিত।
তাড়াতাড়ি গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "কিগো পচাদা, প্লেন ক্যানসেল বুঝি? তুমি ফিরে এলে যে?"
পচাদা করুণভাবে বললো, "মাইরি, অতো ঝামেলা জানলে প্লেনে চড়তামই না রে ভাই। প্লেনে ওঠার পর একজন বিমানবালা আমাদেরকে বোঝাতে লাগলো যে প্লেন এ্যাকসিডেন্ট হলে কি কি করতে হবে। আমার তো এ্যাকসিডেন্টের নাম শুনেই ভয়ে হাত-পা পেটে সেঁধিয়ে গেছে! সবশেষে বলে কি না, প্লেন যদি কোন নদী বা সাগরে ক্র্যাশ করে, তাহলে সিটের তলার কুশনটাকে নাকি নৌকোর মতন ব্যবহার করতে পারবো।"
পচাদা একটু দম নিয়ে বললো, "এই শুনেই না আমার মাথাটা চড়ে গেলো। রেগেমেগে আমি জিজ্ঞেসই করে বসলাম যে প্লেনটাই যদি উড়তে না পারে, তো সিটটা যে জলে ভাসবে তার গ্যারান্টি কোথায়? ব্যস, শুরু হয়ে গেলো তুমুল বাওয়াল! তারপর আমাকে প্লেন থেকে নামিয়ে দিলো। যাঃ, যাবোই না প্লেনে। রেলগাড়িতে চেপেই বোম্বে যাবো।"

সান্টা আর প্রীতো

সান্টা সিং আর তার বউ প্রীতো অনেকদিন ধরেই কানাডায় আছে। ওদের বিয়েরও অনেকদিন হয়ে গেছে, কিন্তু কোন ছেলেমেয়ে না হওয়ায় দুজনে মিলে ঠিক করে একটা বাচ্চা মেয়েকে দত্তক নিল।
এর কয়েকদিন পর সান্টার সাথে হঠাৎ তার বন্ধু বান্টার দেখা। বান্টা বললো, "আরে সান্টা, তোর বউ প্রীতো নাকি আজকাল সন্ধেবেলা স্প্যানিশ শেখার ক্লাসে ভর্তি হয়েছে?"
সান্টা বললো, "হ্যাঁরে বান্টা, ঠিকই শুনেছিস। আমিও সামনের সপ্তাহ থেকে ক্লাস করতে যাবো।"
বান্টা অবাক হয়ে বললো, "কিন্তু কেনো? কানাডায় তো ইংরেজি আর ফরাসী - এই দুটো ভাষা জানা থাকলেই হলো।"
সান্টা বললো, "আরে ভাই বান্টা, এটা তো জানিস যে আমরা একটা ছোট্ট মেয়েকে দত্তক নিয়েছি। এখানকার সরকারী সিস্টেমে যে মেয়েটাকে পেলাম, ওর বাবা-মা দুজনেই মেক্সিকোর লোক। বাচ্চাটা এখনো কথা বলতে শেখেনি। কিন্তু কথা বলতে শেখার পর যাতে ওর কথা আমরা বুঝতে পারি, তাই স্প্যানিশটা শিখে নিচ্ছি।"

পচাবউদির পিঠব্যথা

পচাবউদির সাথে মোড়ের মাথায় দেখা।
বউদি খুব দুঃখ করে বললো, "এই দেখনা, ডাক্তারের কাছে গেছিলাম। পিঠের ব্যথায় আর পারছি না।"
আমি বললাম, "হঠাৎ কিভাবে ব্যথা হয়ে গেলো?"
বউদি, "আর বলিস না, সকালবেলা ড্রইংরুমের সোফাটাকে একটু সরিয়ে ঠিক করে সাজিয়ে রাখতে গেলাম, আর ওই করতে গিয়েই হ্যাঁচকা টান লেগে গেলো।"
আমি, "আরে, একা একা এসব টানাটানি করতে গেলে কেনো? পচাদা বাড়ি ফিরে আসার পরই তো করতে পারতে!"
বউদি, "তা করতে পারতাম। তবে তোদের পচাদা না থাকলে সোফাটা সরানো একটু সোজা। মানে ওটার ওপর কেউ বসে না থাকলে ওজনটা তো একটু কম হয় আর কি!"

নেপোয় মারে দই

অনেকদিন আগের ঘটনা। বিহারের এক গ্রাম থেকে এক স্কুল-টিচার বোম্বেতে (তখনও মুম্বাই হয় নি) বেড়াতে এলো। বোম্বেতে তার এক তুতো দাদা থাকতো, যে বিখ্যাত শেয়ার দালাল আপনধন মেহতার গাড়ি চালাতো।
সবকিছু ঘুরিয়ে দেখানোর পর, দাদা ভাইকে নিয়ে বোম্বে জাহাজঘাটায় গেলো। ওখানে অনেকগুলো প্রাইভেট ইয়াট পাশাপাশি নোঙ্গর করে রাখা ছিলো।
দাদা ভাইকে ঐ ইয়াটগুলো দেখিয়ে বললো, "এই যে দেখছিস, এই সবকটা ইয়াটের মালিক হলো আমার সাহেবের মতন শেয়ার দালাল বা ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজাররা।"
স্কুল টিচার ভাই খুবই সরলভাবে জিজ্ঞেস করলো, "তাই নাকি! বাঃ বাঃ। আচ্ছা দাদা, ইনভেস্টর মানে বিনিয়োগকারীদের ইয়াটগুলো কোথায় গো?"

মুখটা চেনা চেনা লাগছে

আসামীকে এজলাসে নিয়ে আসার পর তার দিকে তাকিয়ে বিচারক বললেন, "তোমার মুখটা খুব চেনা চেনা লাগছে। তোমায় আগে কোথাও দেখেছি কি?"
আসামী আশান্বিত হয়ে জজসাহেবের দিকে তাকিয়ে বললো, "হ্যাঁ, ধর্মাবতার। আমি আপনার ছেলেকে গতবছর শীতের সময়টায় গান শিখিয়েছিলাম।"
"আঃহা! ঠিক, ঠিক", জজসাহেবের মনে পড়ে গেলো। তারপর আর কোনও কথা না বাড়িয়েই বললেন, "যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলো।"

পচাদার রাতের ঘুম গুম


পচাদার বাড়ির পাশের মাঠটাতেই রাজ্যের সব কুকুরের রাত্রিকালীন মহাসভা বসে। তুমুল ঘেউ ঘেউ আওয়াজে পচাদার ঘুম মাটি। শেষমেষ পচাদা ডাক্তারের কাছে গেলো।
বাংলা পচাদা জোকস
পচাদা ডাক্তারবাবুকে বললো, "বাড়ির পাশের রাস্তায় কুকুরগুলো রোজ রাতে নিয়ম করে হল্লা করে। কিছুতেই ঘুমোতে পারি না।"
ডাক্তার পচাদাকে পরীক্ষা করে বললেন, "এই ঘুমের বড়িটা নতুন এসেছে। খুব ভালো কাজ দেয়।"
ডাক্তার, পচাদা, কুকুর, ঘুমের ওষুধ
পচাদা ডাক্তারের ভিজিট দিয়ে, অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে এবং ওষুধ নিয়ে চলে গেল। কিন্তু এক সপ্তাহ বাদেই ফিরে এসে বলল, "এখনো আমার ঘুমের সমস্যা হচ্ছে।"
ডাক্তার প্রশ্ন করেন, "কিন্তু ওষুধটা তো বেশ ভালো। অনেকেরই কাজ হয়েছে।"
ঘেউ ঘেউ ভৌ ভৌ
পচাদা এবার বেশ বিরক্তভাবে বললো, "তাতে কি মশাই? সারা রাত কুকুরগুলোকে ধাওয়া করে একটা যদিও ধরতে পারি, কিছুতেই বদমাশটাকে ওষুধ গেলানো যায় না।"