বুধবার, ২৮ মার্চ, ২০১২

পাকিস্তানের চন্দ্রাভিযান

যেদিন ভারত চন্দ্রায়ণের সাফল্যের কথা প্রচার করলো, সেদিন থেকেই পাকিস্তানের নেতা, মন্ত্রী, সান্ত্রী, জেনারেল, আম-আদমি সব্বাই বলা আরম্ভ করলো যে যদ্দিন পর্যন্ত পাকিস্তানের তরফে চাঁদে কোন স্যাটেলাইট রকেট পাঠানো হচ্ছে না, ততোক্ষণ ভারতের কাছে মুখ দেখানো যাবে না।
ব্যাস, তখন থেকেই পাকিস্তানের বিজ্ঞানিরা আদাজল খেয়ে লেগে পড়লেন। যেভাবেই হোক চন্দ্রাভিযান করতেই হবে। অবশেষে সেই দিন এলো। কাউন্টডাউনের পর হুশ করে রকেটে ভর করে পাকিস্তানের চাঁদে যাওয়ার স্যাটেলাইট "মামুদ" উড়ে গেলো।
কিছুক্ষণ পরেই পাকিস্তানের চ্যানেল পি-টিভি থেকে সংবাদপাঠক খুবই আনন্দের সঙ্গে জানালেন, "পাকিস্তানের প্রথম চন্দ্রাভিযান আশাতীত সাফল্য পেয়েছে। আমাদের স্যাটেলাইট থেকে পাঠানো ছবি এবং তথ্য থেকে জানা গেছে যে চাঁদে পৃথিবীর মতই সাগর আছে। সাগরে জল, মাছ এবং আরো অনেক রকমের সামুদ্রিক প্রাণীও আছে। পাকিস্তানের উজির-এ-আজম এক বার্তায় বলেছেন যে এতোদিন ধরে এইসব খবর চেপে  রেখে চাঁদের জলবায়ু এবং প্রাণের অস্তিত্ব অস্বীকার করাটা এক বিরাট ষড়যন্ত্র, যেটার মূল ষড়যন্ত্রকারী হ'ল ভারতবর্ষ। আমাদের দেশের মহান বিজ্ঞানীরা এই ব্যাপক ষড়যন্ত্রকে বানচাল করে ভারতের এবং ইসরায়েলের মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছেন। এইজন্য রাষ্ট্রপতিও বিজ্ঞানীদের উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। এই উপলক্ষে পাকিস্তানের সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করেছেন।"
এদিকে বিবিসি এবং সিএনএন এর সংবাদ পাঠকের বক্তব্যটা একটু অন্যরকম ছিলো। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থার খবরে প্রকাশ, "এইমাত্র পাওয়া খবরে জানা গেছে যে পাকিস্তানের চন্দ্রাভিযান সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তান থেকে চাঁদের উদ্দেশ্যে যে স্যাটেলাইটটা পাঠানো হয়েছিল, সেটাকে আরব সাগরে ভেঙ্গে পড়তে দেখা গেছে। বিমান থেকে উপগ্রহটির ধ্বংসাবশেসও খুঁজে পাওয়া গেছে। সৌভাগ্যবশতঃ এই দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত হন নি। পাকিস্তান উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করবে এটা জেনে আগে থেকেই রেড-এলার্ট জারি করা হয়েছিল। ফলে ঐ অঞ্চলে কোন জাহাজ, মাছ ধরার ট্রলার বা বিমান উপগ্রহটি ভেঙ্গে পড়ার সময়ে ছিলো না।"